নতুন কন্টেন্ট আইডিয়া
আপনারা যারা নিজেদের ব্লগ বা ক্লায়েন্ট প্রজেক্টর কাজ করেন তাদের সর্বদা নিত্য নতুন কন্টেন্ট আইডিয়া জেনারেট করতে হয়। অনেকেই নিজেরাই নিজেদের কন্টেন্ট লিখতে পারেন তাদের জন্যও আইডিয়া জেনারেট করা খুব জরুরি। আইডিয়ার মাধ্যমে আসলে আপনি আপনার ওয়েবসাইট এ টার্গেটেড ভিজিটর আনতে পারবেন। আমরা সবাই কমবেশি কন্টেন্ট আইডিয়া জেনারেট,বা কন্টেন্ট মার্কেটিং শব্দের সাথে পরিচিত। কোনো প্রতিষ্ঠান তাদের প্রোডাক্ট বা সার্ভিসের উপকারিতা, ব্যবহারের নিয়ম, কোনো প্রয়োজনীয় তথ্য কিংবা কোনো মজার অভিজ্ঞতার কথা যার মাধ্যমে তাদের টার্গেটেড অডিয়েন্সের কাছে শেয়ার করে থাকে তাকে বলা হয় কন্টেন্ট মার্কেটিং।কন্টেন্ট মার্কেটিং ট্র্যাডিশনাল মার্কেটিংয়ের চেয়ে ভিন্ন, এবং বেশি কার্যকরী। এই আর্টিকেলে আমি আপনাদের সাথে শেয়ার করবো কন্টেন্ট আইডিয়া যেটা আপনার ছোট বিজনেসে অ্যাপ্লাই করে খুবই অল্প সময়ে বিজনেস বড় করতে পারবেন। এবং আপনার বিজনেসকে ফেমাস করে তুলতে পারবেন।
নতুন কন্টেন্ট আইডিয়া কী?
কন্টেন্ট মানে কী,আপনি এর মানে কী বুঝেন ? বাংলাতে কন্টেন্ট বলতে বুঝায় বিষয়বস্তু। আপনি আপনার নিজের চিন্তা ভাবনা থেকে কোন বিষয়ের উপর যা লিখবেন যা তৈরি করবেন সেটা হল একটা কন্টেন্ট। অনেকে কন্টেন্ট বলতে মনে করেন শুধু ওয়েবসাইট এর জন্য ব্লগ বা আর্টিকেল লেখা। এই ধারণা টা ভুল। আপনি যদি কোন টিভি বিজ্ঞাপন এর জন্য স্ক্রিপ্ট লিখেন বা ইউটিউবের ভিডিও জন্য লিখেন সেটা কিন্তু কন্টেন্ট।কোন ব্যক্তি যখন নিজের জ্ঞান, অভিজ্ঞতা কৌশল এবং দক্ষতা ব্যবহার করে একটি কন্টেন্ট তৈরি করেন বা লিখেন তখন সেই ব্যক্তিকে বলা হয় কন্টেন্ট রাইটার। ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের উদ্দেশ্যে ওয়েব কন্টেন্টের পরিকল্পনা করা, কন্টেন্ট লেখা ও এডিটিংয়ের প্রক্রিয়াকে Conten রাইটিং বলে।
ওয়েব কন্টেন্ট বিভিন্ন ফরমেট এর হতে পারে। যেমন
ব্লগ পোস্ট
সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট
ইউটিউবের ভিডিও ডেসক্রিপশন
ভিডিও স্ক্রিপ্ট
ই-বুক
তিন বিষয়ের রিভিউ
বিজ্ঞাপনের কপি
ওয়েবসাইটের কপি
এ ছাড়াও অডিও কন্টেন্ট, ভিডিও কন্টেন্ট, ইমেজ কন্টেন্ট, নানা ধরনের Content রয়েছে। আবার অনেক কন্টেন্ট রয়েছে যে গুলাতে কপিরাইট ইস্যু রয়েছে সে গুলা আলাদা ব্যাপার। সে বিষয়ে অন্য একটি আর্টিকেল বিস্তারিত আলোচনা করব।
কন্টেন্ট এর গুরুত্ব?
বর্তমানে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ার কারণে ওয়েব নতুন কন্টেন্ট আইডিয়া দিয়ে তাদের কাছে পৌঁছাতে চায় প্রতিটা ব্র্যান্ড এবং তাদের বিজনেস। সে ক্ষেত্রে একজন কন্টেন্ট রাইটার হিসেবে আপনি অনেক বড় ভূমিকা রাখতে পারবেন সে লক্ষ পূরণে। তাই ওয়েব কন্টেন্ট লেখার মাধ্যমে আপনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন।
একজন কন্টেন্ট রাইটারের কী ধরনের দক্ষতা ও জ্ঞান থাকতে হয়?
টেকনিক্যাল বিষয়ে লিখতে হলে সে বিষয়ের উপর দীর্ঘমেয়াদি পড়াশোনা থাকা জরুরি। যেমন ইতিহাসের ছাত্র হয়ে থাকলে মেডিকেল প্রযুক্তি নিয়ে লেখা আপনার জন্য কষ্টসাধ্য হবে।অনলাইনে কাজ করার জন্য কন্টেন্ট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (যেমন ওয়ার্ডপ্রেস) আর সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন (SEO) নিয়ে ভালো ধারণা থাকলে আপনার গ্রহণযোগ্যতা বেড়ে যাবে অনেক।বাংলায় লিখতে চাইলে বাংলা ভাষা ও ব্যাকরণের উপর তার জ্ঞান থাকতে হবে ।যা যা থাকা দরকার একজন রাইটার এর
১ .এসব বিষয় নিয়ে গবেষণা করার দক্ষতা
২ .সহজেই বোঝা যায়, এমনভাবে লেখার ক্ষমতা
৩ .লেখার ভেতর বৈচিত্র্য নিয়ে আসতে পারা
৪ .ঠিক বানানে দ্রুত লেখার অভ্যাস
যে বিষয়গুলো লক্ষ্য রাখতে হবে
প্রথমে একটি নির্দিষ্ট টপিক নির্বাচন করতে হবে। অর্থাৎ আপনি কোন টপিকের উপর লিখতে চান সেটি আপনাকে নির্বাচন করতে হবে। তারপর আপনার নির্বাচিত টপিক সম্পর্কে রিসার্চ করতে হবে বিস্তারিত জানতে হবে। সেক্ষেত্রে আপনি ফেইসবুক গুগলের সাহায্য নিতে পারেন। অর্থাৎ ফেইসবুক গুগল ইউটিউব সার্চ করে বিস্তারিত জানতে পারেন এবং বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করতে পারেন।
মনে রাখবেন আপনি যেই বিষয় সম্পর্কে জানতে চাচ্ছেন এবং তথ্য সংগ্রহ করতে চাচ্ছেন সেইগুলো যেন সঠিক তথ্য হয়। কোনো ভুল তথ্য সংগ্রহ করা এবং প্রকাশ করা কখনোই ঠিক নয়।অন্যের কোন লেখা বা ছবি কোনোভাবেই কপি করবেন না। আপনাকে আপনার নিজের মত করে সংগ্রহ করা তথ্যগুলোকে সাজিয়ে গুছিয়ে রুপান্তর করে তারপর ওয়েবসাইটে ব্লগে পেইজে গ্রুপে ও ব্যক্তিগত আইডিতে প্রকাশ করতে হবে।যে কোন টপিকের উপর কোন Content লিখতে হলে অবশ্যই মিনিমাম ৫০০পাঁচশত শব্দের লিখতে হবে। যদি ১০০০ এক হাজার, শব্দে লিখতে পারেন তাহলে সেই কনটেন্টটি গুগলের কাছে অনেক বেশি গ্রহণযোগ্যতা পাবে ভ্যালু পাবে। আর সর্বোচ্চ লিখতে পারেন আনার খুশিমতো। লেখার শুরুতে একটি আকর্ষণীয় টাইটেল যুক্ত করতে পারেন। যেমন আপনি যেই টপিক নিয়ে লিখছেন সেই টপিকের একটি টাইটেল যুক্ত করতে পারেন। মনে করেন আপনি গ্রাফিক্স ডিজাইন নিয়ে লিখতে চাচ্ছেন। তাই আপনার টাইটেল হতে পারে গ্রাফিক্স ডিজাইন কি? কীভাবে গ্রাফিক্স ডিজাইন শেখা যায় ইত্যাদি।
ভালো কন্টেন্ট এর জন্য অনেক বেশি বেশি পড়ুন
লিখতে হলে আগে অবশ্যই অবশ্যই অনেক বেশি পড়তে হবে। কন্টেন্ট রাইটিংয়ের ক্ষেত্রে পড়ার কোন বিকল্প নেই। যেকোনো ধরনের পড়াশোনাই আপনার লেখালেখিতে কোনো না কোনো প্রভাব ফেলবে। যেমন, আপনি টেকনিক্যাল Content লেখেন কিন্তু আপনার ফিকশন পড়তে ভালো লাগে। কাজের জন্য আপনাকে আপনার ক্ষেত্র নিয়ে পড়াশোনা তো অবশ্যই করতে হবে, কিন্তু ফিকশন পড়াটাও সার্বিকভাবে আপনার লেখক মানসিকতার বিকাশ ঘটাবে। তাই হাতের কাছে যা পান, যা ইন্টারেস্টিং মনে হয় পড়া শুরু করে দিন। কোন পড়াই বিফলে যায় না।
রিসার্চ করুন
আপনি যে ধরনের কন্টেন্ট জেনারেট করেন না কেন, যা লিখতে যাচ্ছেন সেটা সম্পর্কে পড়াশোনা করে নেয়া অত্যাবশ্যক। একেই টপিক রিসার্চ বলে। বর্তমানে ইন্টারনেটের যুগে গুগল করলেই আপনি আপনার বিষয়ের অসংখ্য আর্টিকেল, রিসার্চ পেপার, নিউজ, ভিডিও পেয়ে যাবেন।তবে ক্ষেত্র বিশেষে একেবারেই ইন্টারনেটে না পেলে লাইব্রেরি, আর্কাইভ ইত্যাদি জায়গায় যেতে হতে পারে। সেসব থেকে আপনার কাঙ্ক্ষিত বিষয় সম্পর্কে গভীর ধারণা নেয়ার পাশাপাশি পরবর্তীতে নিজের লেখায় ব্যবহার করার মতো তথ্য ও ঘটনা টুকে রাখতে পারেন। তবে অবশ্যই তথ্য বা ঘটনার সোর্স সহ নোট করতে হবে।
কমফোর্ট জোন থেকে লেখা শুরু করুন
যখন নতুন নতুন লেখা শুরু করবেন, তখন আপনার পছন্দ বা আগে থেকেই জানাশোনা আছে এমন বিষয় নিয়ে লিখতে পারেন। তাহলে লেখাটাকে খুব একটা কঠিন মনে হবে না।লেখালেখি করা শুরু করার সাথে সাথেই কাজ পেয়ে যাওয়ার নজির খুব কম। মনে রাখবেন, যেকোনো কিছুকে প্রফেশন হিসেবে নিতে হলে তা আগে অনুশীলন করে আয়ত্তে আনতে হয়। তাই আপনার প্রথম লেখাগুলো হয়ত এতটা সুন্দর, তথ্যবহুল, গঠনমূলক হবে না। কিন্তু আপনি অনুশীলন চালিয়ে গেলে একসময় নিজেই আপনার উন্নতি অনুধাবন করতে পারবেন।
পরিশেষে আপনাদের এটাই বলবো,বর্তমান সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে ছোট বড় যেকোনো বিজনেস প্রমোট করতে, কম সময়ের মধ্যে সবচেয়ে বেশি অডিয়েন্সের কাছে পৌঁছাতে নতুন কন্টেন্ট আইডিয়া এর বিকল্প কিছুই নেই। উপরের কন্টেন্ট আইডিয়া গুলি যদি যথাযথ ভাবে ব্যবহার করতে পারেন তাহলে অল্প সময়েই বিজনেসের পরিচিতি বাড়াতে পারবেন,বিজনেস বড় করতে পারবেন। তবে কন্টেন্ট আইডিয়া গুলির পাশাপাশি যেটা সবচেয়ে বেশি মেন্ডটরি সেটা হলো আপনার সততা। যেকোনো কন্টেন্ট আইডিয়া কাজে লাগানোর সময় সততা এবং সঠিক শ্রম দিন, সফলতা অবশ্যই পাবেন।
Comments
Post a Comment