ডিজিটাল কনটেন্ট

 ডিজিটাল কনটেন্টঃ

কোনো কনটেন্ট যদি ডিজিটাল উপাত্ত আকারে বিরাজ করে, প্রকাশিত হয় বা প্রেরিত-গৃহিত হয় তাহলে সেইসব কনটেন্টকেই ডিজিটাল কনটেন্ট বলে। কয়েকটটি ডিজিটাল কনটেন্ট হলোঃ ছবি, অডিও, ভিডিও ও এনিমেশন।

ডিজিটাল কন্টেন্ট বা শিক্ষায় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির মাধ্যমগুলো হল--

# অডিও উপকরণ

# পিকচার/ইমেজ

# ওয়েব ভিত্তিক উপকরণ

# মাল্টিমিডিয়া এনিমেশন

ভিডিও উপকরণ ডিজিটাল কন্টেন্টের একটি শক্তিশালী মাধ্যম। বর্তমান সময়ে ইন্টারনেট, টিভি, সিডি-ও ডিভিডি, মোবাইল, ট্যাব ইত্যাদি ব্যবহার করে আমরা আমাদের পাঠ সংশ্লিষ্ট ভিডিও ক্লিপ পেতে পারি বা সংগ্রহ করতে পারি। ইন্টারনেটের youtube, teachertube, e-how.com, discovery education ইত্যাদিতে আমাদের কন্টেন্টের জন্য প্রয়োজনীয় ভিডিও পাওয়া যায়। ক্লাস রুমে জটিল বিষয়কে সহজ ভাবে উপস্থাপনের জন্য খুবই কার্যকরী। এছাড়া বিভিন্ন লেকচার ভিত্তিক ও টিউটোরিয়ালভিত্তিক ওয়েবসাইট থেকে ভিডিও সংগ্রহ করা যায়। অনেক সময় একটি সাধারণ ক্যামেরা বা মোবাইল ফোনের ক্যামেরা ব্যবহার করে কোনো বিষয়, ঘটনা, রোল প্লে, ইত্যাদি ভিডিও করে ডিজিটাল কন্টেন্টে ব্যবহার করা যায়। ক্যামব্রিয়ান টিভি ডট কম থেকে বিভিন্ন ্নবিষয়ভিত্তিক শিক্ষকের ভিডিও লেকচার ডাউন লোডকরে ডিজিটাল কন্টেন্টে ব্যবহার করা যাবে। সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম গুলোতেও পাঠ সংশ্লিষ্ট অনেক ভিডিও ক্লিপ পাওয়া যায়।

ডিজিটাল কন্টেন্টে অডিও খুব গুরুত্বপূর্ণ একটি উপকরণ। প্রকৃতি, প্রাণী, বিশেষ ঘটনা, সুনির্দিষ্ট কোনো বিষয় ইত্যাদির সাথে সংশ্লিষ্ট অডিও ক্লিপ ইন্টারনেট থেকে ডাউনলোড করে ডিজিটাল কন্টেন্টে ব্যবহার করা যায়। এছাড়া রেকর্ডার দিয়ে গল্প, কবিতা, ছড়াকার ও সুমিষ্ট কণ্ঠ ও সুন্দর বাচনভঙ্গি রেকর্ড করে সাহিত্যের বিভিন্ন ক্লাসে ব্যবহার করা যায়। উচ্চারণ ও উপস্থাপন ক্লাসে অডিওএর কোনোবিকল্প নেই। আবৃত্তি-গান কিংবা কোনোকিছুর ধারা বর্ণনার ক্ষেত্রে আমাদের মুঠো ফোনের অডিও রেকর্ডারই যথেষ্ট। এছাড়া ইংরেজি বা অন্য ভাষার ভিডিও ক্লিপে বাংলা নেরেশন ডাবিংএর ক্ষেত্রে মুঠো ফোনে অডিও রেকর্ড করা যায়।

ডিজিটাল কন্টেন্টের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপকরণ হল পিকচার বা ইমেজ। গুগল ইমেজ সার্চের মাধ্যমে GIF, PNG, JPEG ইত্যাদি ফরমেটের যেকোনো ইমেজ পাওয়া যায়। ছবি নির্বাচনের ক্ষেত্রে ভালো রেজুলেশনের দেশীয় প্রেক্ষাপট ও বয়স উপযোগী ছবি নির্বাচন করতে হবে। রাজনৈতিকভাবে বা কারো ব্যক্তিগত স্বার্থে আঘাত হানে অথবা কোনো জাতিস্বত্তার অসম্মান হয় এমন ছবি ডিজিটাল কন্টেন্টে ব্যবহার করা যাবে না।

ওয়েবভিত্তিক উপকরণ ব্যবহার করে শিক্ষার্থীকে সরাসরি শ্রেণিকক্ষ থেকে কোনো নির্দিষ্ট ওয়েবে লিঙ্ক করে শিক্ষা দান করা যায়। শিক্ষার্থীরাও ওয়েবে নিজেরাও স্টাডি করতে পারে।

যেমন-MOOC-Massive Open Online Course থেকে শিক্ষার্থীরা অনেক বিষয়ে শিক্ষা গ্রহণ করতে পারে। এছাড়াও srijonshil.com, teacher.gov.bd, englishteststore.com, slideshare.net, slideworld.com, khanacademy.com, cambriantv.com ছোটদের ছড়া গানের জন্য এবং বিষয়ভিত্তিক অসংখ্য ওয়েবসাইট থেকে ওয়েবভিত্তিক পড়াশুনা করা যায়।

ইন্টারনেট থেকে বিষয়ভিত্তিক এনিমেশন ডাউনলোড করে ডিজিটাল কন্টেন্টে ব্যবহার করা যায়। এক্ষেত্রে GIF Image, Animation Factory, PowerPoint Animation, Phet Simulation ইত্যাদি মাল্টিমিডিয়া এনিমেশন ব্যবহার করে ডিজিটাল কন্টেন্ট তৈরি করা যায়।

বি:দ্র: ডিজিটাল কন্টেন্ট কখনো বাস্তব উপকরণের বিকল্প নয়, তাই পারত পক্ষে ক্লাস রুমে বাস্তব উপকরণের ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।

★★ডিজিটাল কন্টেন্ট তৈরির ধাপ সমূহ★★

প্রেজেন্টেশন এর স্লাইড অনুসারে : 

১) শুভেচ্ছা / স্বাগতম (ফুল বা পাঠ সংশ্লিষ্ট ছবি দেয়া যেতে পারে)

২) পরিচিতি (কথাটি লেখার দরকার নেই। শুধু নিন্মোক্ত তথ্য দেয়া যেতে পারে)   ঃঃ নিজের নাম / ছবি, পদবী, প্রতিষ্ঠান, মোবাইল নম্বর, ই-মেইল ইত্যাদি 

৩) পাঠ/বিষয় পরিচিতি (শব্দগুলো লেখার দরকার নেই। শুধু নিম্নোক্ত তথ্য দেয়া যেতে পারে)ঃঃ বিষয়, শ্রেণি, অধ্যায়, সময়, পিরিয়ড, তারিখ ইত্যাদি। 

তবে পরিচিত অংশে শিক্ষক পরিচিতি ও পাঠ পরিচিতি একসাথে দেওয়া যেতে পারে। 

৪) মানসিক পরিবেশ তৈরি/পাঠ শিরোনাম ঘোষণার জন্য ছবি/ভিডিও দেখিয়ে বা প্রশ্ন করে শিক্ষার্থীদের থেকে পাঠের বিষয়বস্তু বের করে আনা ও বোর্ডে লিখে দেয়া। 

৫) স্লাইডে পাঠ ঘোষণা শব্দটি না লিখে শুধু পাঠের নাম/বিষয়বস্তু লিখে আন্ডার লাইন করুন।

যেমন- বায়ু দূষণ, খাদ্য ও পুষ্টি ইত্যাদি। একই সাথে শিক্ষার্থীদের খাতায় লিখে নিতে বলুন।

৬) শিখনফল

এই পাঠ শেষে শিক্ষার্থীরা-........

i. ..............বলতে পারবে;

ii. .............. ব্যাখ্যা করতে পারবে/লিখতে পারবে.....ইত্যাদি;

iii. ............. সনাক্ত করতে পারবে/সমাধান করতে পারবে/বর্ণনা করতে পারবে ইত্যাদি;

iv. ..............বিশ্লেষণ করতে পারবে/আঁকতে পারবে.......ইত্যাদি।

(বি.দ্র.- জ্ঞান, অনুধাবন, প্রয়োগ এবং উচ্চতর চিন্তন দক্ষতামূলক চারটি শিখনফল লিখুন যাতে করে পাঠ শেষে সৃজনশীল প্রশ্ন তৈরি করা যায়। চারটি না হলেও কমপক্ষে তিনটি লিখুন। গণিত ও ইংরেজি বিষয়ে কমও হতে পারে)

৭) উপস্থাপন (কথাটি লেখার প্রয়োজন নেই)

প্রথম শিখনফল অনুযায়ী শিক্ষার্থীদেরকে পাঠ সংশ্লিষ্ট কোনো ছবি/ভিডিও/তথ্য দেখিয়ে সেখান থেকে প্রশ্ন করে করে ক্লু দিয়ে সাহায্য করা যাতে করে তারা চিন্তা করে পরবর্তী কাজ করতে পারে। ছবি/ভিডিও Thought Provoking (অনুসন্ধিৎসু) হতে হবে যাতে শিক্ষার্থীদের কাছে শিখনফলটি বোধগম্য হয়। এজন্য প্রয়োজনে একাধিক স্লাইড ব্যবহার করা যাবে।

....................................................................

১০) একক কাজ

...................................... কী?

...................................... সংজ্ঞা লিখ।

.............................................. উল্লেখ কর। ইত্যাদি

(বি.দ্র. – একক কাজ হিসেবে একটি বা সর্বোচ্চ দুটি কাজ দিন যাতে করে শিক্ষার্থীরা নিজে নিজে চিন্তা করে পূর্বের ক্লু অনুযায়ী লিখতে পারে। এক কথায় উত্তর হবে এমন প্রশ্ন দেয়া যাবে না। শিখনফলে উল্লেখ করেননি বা পূর্বে স্লাইডে উপস্থাপন করেননি এমন প্রশ্নও করা যাবে না।)

১১) দ্বিতীয় শিখনফল অর্জন করার জন্য একইভাবে-

শিক্ষার্থীদেরকে পাঠ সংশ্লিষ্ট কোনো ছবি/ভিডিও/তথ্য দেখিয়ে সেখান থেকে প্রশ্ন করে করে ক্লু দিয়ে সাহায্য করা যাতে করে তারা চিন্তা করে পরবর্তী কাজ করতে পারে। ছবি/ভিডিও Thought Provoking (অনুসন্ধিৎসু) হতে হবে যাতে শিক্ষার্থীদের কাছে শিখনফলটি বোধগম্য হয়। এজন্য প্রয়োজনে একাধিক স্লাইড ব্যবহার করা যাবে।

১৪) জোড়ায় কাজ

...................................... ব্যাখ্যা কর।

...................................... পার্থক্য নির্ণয় কর।

.............................................. কেন, তা লিখ। ইত্যাদি

(বি.দ্র. – জোড়ায় কাজ হিসেবে একটি বা সর্বোচ্চ দুটি কাজ দিন যাতে করে শিক্ষার্থীরা নিজে নিজে চিন্তা করে পূর্বের ক্লু অনুযায়ী লিখতে পারে। শিখনফলে উল্লেখ করেননি বা পূর্বে স্লাইডে উপস্থাপন করেননি এমন প্রশ্নও করা যাবে না। তবে তা অবশ্যই একক কাজ থেকে আরেকটু গভীর হবে, যেখানে শিক্ষার্থীদের একটু মাথা খাটানোর সুযোগ থাকবে।)

১৫) তৃতীয় ও চতুর্থ শিখনফল অর্জন করার জন্য একইভাবে-

শিক্ষার্থীদেরকে পাঠ সংশ্লিষ্ট কোনো ছবি/ভিডিও/তথ্য দেখিয়ে সেখান থেকে প্রশ্ন করে করে ক্লু দিয়ে সাহায্য করা যাতে করে তারা চিন্তা করে পরবর্তী কাজ করতে পারে। ছবি/ভিডিও Thought Provoking (অনুসন্ধিৎসু) হতে হবে যাতে শিক্ষার্থীদের কাছে শিখনফলটি বোধগম্য হয়। এজন্য অবশ্যই একাধিক স্লাইড ব্যবহার করতে হবে।

....................................................

১৭) দলগত কাজ

...................................... যুক্তি সহকারে বুঝিয়ে লিখ।

...................................... রূপরেখা তৈরি কর।

.............................................. চিত্র প্রস্তুত কর।

............................................... তালিকা তৈরি কর। ....ইত্যাদি

(বি.দ্র. – শিখনফল অনুযায়ী উচ্চতর চিন্তন দক্ষতার প্রতিফলন ঘটতে পারে এমন প্রশ্ন করতে হবে।)

১৮) মূল্যায়ন

· ছোট ছোট প্রশ্ন

· ছবি দেখিয়ে প্রশ্ন

· মিলকরণ

· শূণ্যস্থান পূরণ ইত্যাদি।

১৯) বাড়ির কাজ

উচ্চ চিন্তন ধর্মী কিন্ত স্বল্প সময়ে যাতে করতে পারে এমন কাজ। কেননা খেয়াল রাখতে হবে অন্যান্য বিষয়ের শিক্ষকও শিক্ষার্থীদের বাড়ির কাজ দিবেন, যাতে শিক্ষার্থীর উপর চাপ সৃষ্টি না হয়।

২০) ধন্যবাদ

ফুল বা পাঠ সংশ্লিষ্ট আকর্ষণীয় ছবি দেয়া যেতে পারে।

২১) একটি আদর্শ প্রেজেন্টেশন বা কনটেন্টে স্লাইডের সংখ্যা সাধারণত ১৮ থেকে ২১ টি রাখা ভালো। তবে ২/১ টি কম বা বেশি হতে পারে।

(সংগৃহীত) 

Comments